Saturday, May 30, 2009

হজ্বের সেই দিনগুলো - ৮ম পর্ব



মসজিদে নব্বীর যে স্থানকে দেখার জন্য সহস্র মাইল থেকে ছুটে আসা সেই রাসুলের পবিত্র রওজা মোবারক কে দেখার জন্য আমরা সকলেই ছিলাম উদগ্রীব ।তাই সকালের ফরয নামাজ শেষে দলের সিনিয়র সদস্য সারওয়ার ভাইকে খুব করে ধরলাম চলেন ভাইয়া দেখে আসি একবার রওজা মোবারক । তিনি হেসে বললেন এত অস্থির হওয়ার কিছু নাই আর এখন সকালে সেখানে যে অবস্থা সেই ভীড়ে কিছুই দেখা যাবেনা ।তিনি বুদ্ধি দিলেন যেহেতু আজ আমাদের মদীনার প্রথম দিন অতএব দলের সবার উচিত আজকের দিনটি মসজিদে নব্বীতে নামাজ পড়া আর বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে এখানকার আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া ।



যেহেতু তাকে আমরা নীতিগতভাবে দলের লীডার এবং একাধারে গাইড হিসেবে মেনে নিয়ে ছিলাম। তাই আর কোন উচ্চবাক্য না করে সেদিনকার মত মনের ইচ্ছা মনে চেপে সাধারন ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে আদায় করে আর বাকী সময়টুকু গেস্ট হাউসে দিনের খাবার খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। এদিকে সারওয়ার ভাই ও বসে নেই তিনি কিছুক্ষন পরপর তার বিগত হজ্বের নানা ঘটনাগুলো আমাদের কাছে বর্ননা করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মসজিদে নব্বীতে কোথায় কি আছে এবং কোন কোন স্থানগুলো বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ ।



মসজিদে নব্বীতে সমস্ত জায়গা লাল বেশ মোটা কার্পেটে আবৃত কেবলমাত্র রিয়াজুল জান্নাহ স্থানটি সবুজ কার্পেটে আবৃত । এই স্থানটিতে আল্লাহ পাকের প্রিয় হাবীব আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা: ) খালি পায়ে দৈনিক পাঁচবার এই স্থানে বিচরণ করেছেন এবং এই জায়গাটি তার বাসস্থানের কাছাকাছি হওয়ায় এই জায়গাটিতে তিনি সর্বাধিক অবস্থান করেছিলেন। রিয়াজ মানে বাগান আর জান্নাত মানে বেহেশত অর্থাৎ বেহেশেতের বাগান হিসেবে সরাসরি আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয় হাবীবের সর্বাধিক বিচরনকৃত এই স্থানটি কেয়ামতের পর সরাসরি জান্নাতের সাথে সংযুক্ত করে নিবেন শেষ বিচার দিনে ।




এই স্হানটির নিকটেই আছে রাসুলের রওজা মোবারক এবং এই রিয়াজুল জান্নাহতে বিশেভাবে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এই স্থানে বেশ কটি পয়েন্টে সর্বমোট ৮টি পিলার বা স্তম্ভ অবস্থিত । এবং এর একটি স্তম্ভকে ঘিরে জড়িয়ে আছে এক একটি সত্য ঘটনা । এবং প্রতিটি ঘটনার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে আছে আল্লাহ পাকের বিশেষ নেয়ামত , করুনা অথবা মোজেযা ।

যারা হজ্বে এবং মসজিদে নব্বীতে যাবেন তাদের সুবিধার জন্য আমি এখানে প্রতিটি স্তম্ভের পেছনের ঘটনাগুলো এবং একইসাথে সবগুলো স্তম্ভের অবস্থান এখানে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করব । আরবীতে পিলার বা স্তম্ভ কে বলে উসতান বলে। তাই নিচের নামগুলো উসতান বলে অভিহিত করব যাতে সেখানে যেয়ে সহজেই মনে পড়ে যায়।

উসতান বা স্তম্ভসমূহের নাম

১। উসতানে হান্নানাহ বা হান্নানাহের স্তম্ভ অথবা ক্রন্দনরত স্তম্ভ
২। উসতানে আয়েশা বা আয়েশার স্তম্ভ
৩। উসতানে তওবা বা তওবার স্তম্ভ
৪। উসতানে শারীর বা শারীরের স্তম্ভ
৫। উসতানে আলী বা আলীর স্তম্ভ
৬। উসতানে ওয়াফুদ বা প্রতিনিধি স্তম্ভ
৭। উসতানে তাহাজ্জুদ বা তাহাজ্জুদের স্তম্ভ
৮। উসতানে জিবরীল বা জিবরীলের স্তম্ভ

নিচে একটি স্কেচের মাধ্যমে পিলার গুলোর অবস্থান তুলে ধরলাম পাঠকের সুবিধার্থে । কারন বাস্তবে দেখা গেছে রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশ করলে মনের অবস্থা এমন দাড়াঁয় তখন পিলার গুলো চিনতে একেতো কষ্ট হয় । এছাড়া নানা মানুষের নানা মতে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়।





উসতানে হান্নানাহ বা হান্নানাহের স্তম্ভ অথবা ক্রন্দনরত স্তম্ভ




এই পিলারটির নাম উসতানে হান্নানাহ বা ক্রন্দনরত পিলার হওয়ার পেছনে একটি সুন্দর ঘটনা আছে। যেই ঘটনাটি রাসুল (সা: ) এর জীবনে একটি আল্লাহ প্রদত্ত মোজেযা হিসাবে বিবেচিত । এই স্থানে মূলত নবিজী নামাজ পড়তেন এবং জুম্মার খোতবার সময়ে এই স্থানে একটি ছোট জীবন্ত খেঁজুর গাছ ছিলো যার গায়ে তিনি হেলান দিয়ে খোতবা পড়তেন । পরবর্তীতে যখন মসজিদের উন্নয়নের সাথে সাথে নবিজী (সা: ) এর জন্য একটি মিম্বর তৈরী করা হয় ।তখন তিনি সেই খেঁজুর গাছের পরিবর্তে সেই মিম্বরে দাঁড়িয়ে খোতবা পড়ছিলেন ।ঠিক এই সময় সারা মসজিদে দেয়ালে গায়ে কারও যেন ফুঁপানো কান্নার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো এবং উপস্থিত সবাই সেটা শুনতে পেলেন । উপস্থিত সবাই দেখলো সেই খেঁজুর গাছের থেকে যেন এই আওয়াজ আসছিলো । রাসুলুল্লাহ (সা: ) সেই গাছের নিকটে যেয়ে তার গায়ে হাত রাখা মাত্রই সেই কান্নার আওয়াজ থেমে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা: ) উপস্থিত সব সাহাবাকে উদ্দেশ্য করে বললেন " এর আগে এর নিকটে আল্লাহর জিকির শোনা যেত এবং মিম্বর তৈরী হওয়ার পর এই জিকির না শুনতে না পেরে এই গাছটি কেঁদে উঠেছে ।আমি যদি এর গায়ে হাত না রাখতাম তাহলে কেয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত এই কান্না থামতোনা ।"
এই গাছটি পরবর্তীতে মরে শুকিয়ে গেলে এই স্থানেই একে পুঁতে ফেলা হয় এবং রাসুলুল্লাহ (সা: ) ওফাতের পর আব্দুল বিন ওয়ালিদের শাসন আমলে এই স্থানে একটি মিম্বর তৈরী করা হয় যার নাম মেহরাবে নাবী। এই মেহরাবে নাবীর দিকে মুখ করে দাঁড়ালে এর ডান দিকের পিলার টি হচ্ছে উসতানে হান্নানাহ ।

চলবে ...

Saturday, May 9, 2009

হজ্বের সেই দিনগুলো - ৭ম পর্ব

মসজিদে নব্বীর ভেতরে প্রবেশের সাথে সাথে এক অনাবিল শান্তিতে যেন সমস্ত হৃদয় ভরে উঠলো। একেতো সম্পূর্ন মসজিদটি কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আর সেইসাথে যোগ হয়েছে মনের ভাবালুতা। মসজিদের অভ্যন্তরে বিশাল থামগুলো দাড়িয়ে একদিকে যেমন স্হাপত্যকীর্তির নিদর্শন বহন করে চলেছে।


অন্যদিকে যেন কালের স্বাক্ষী হয়ে বছরের পর বছর দাড়িয়ে আগলে রেখেছে রাসুলের এই প্রিয় মসজিদকে । প্রবেশ পথে ঢুকতে দুধারে দাঁড়িয়ে ছিলো দুজন প্রহরী যাদের কাজ মূলত মসজিদের অভ্যন্তরে কেউ যেন খাবার বা ব্যাগে ভরে কোন জিনিষ,ক্যামেরা বা কাপড়চোপর ভেতরে না নিতে পারে । অবশ্য কেউ যদি জুতা রাখার ব্যাগ নিয়ে যায় সেক্ষেত্রে তারা নিষেধ করেনা ।



প্রবেশ দ্বার থেকে যে পথ ধরে মুসল্লীরা মসজিদে প্রবেশ করে ,মসজিদের অভ্যন্তরে সেই পথের দুধারে রাখা আছে সারি সারি প্লাস্টিকের ড্রাম সদৃশ্য কনটেইনার।এসব কনটেইনারে আলাদা করে হালকা গরম এবং শীতল জমজমের পানি রাখা আছে ।ওয়ান টাইম ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের গ্লাসের জন্য পাশেই আছে সুন্দর হোল্ডার । এছাড়া সমগ্র মসজিদের মেঝে শুধু চলাচলের পথ ব্যাতীত মনোরম ডিজাইনের লাল কার্পেটে আচ্ছাদিত। একমাত্র রিয়াদুস জান্নাত বা বেহেশতের টুকরো বলে চিন্হিত স্হানটি সবুজ গালিচায় মোড়া।যার অবস্থান মহানবী (সা:) রওজা মোবারকের ঠিক পাশেই।এই স্থানের বিষয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে ।



মসজিদের সবচেয়ে মন কাড়ে যে অংশটি সেটা হল গোল্ড প্লেটেড বিশাল আকারের অসংখ্য ঝাড়বাতি । এগুলোর আলোয় মসজিদের অভ্যন্তরে যেন ঝলমল করছে সর্বদা । কিন্তু অবাক হবার বিষয় যে এত আলোর সমাহারের পরও মসজিদের অভ্যন্তরে এক ধরনের স্নিগ্ধভাব সর্বদা বিরাজমান।



মসজিদের প্রবেশগেটের বিশাল থামে কিছু অংশ সোনার কারুকাজের বৈচিত্রতা সমান নজর কাড়ে আগত মুসল্লীদের। এছাড়া মসজিদের অভ্যন্তরে অসংখ্য থাম বা পিলার গুলো পিতলে মোড়ানো যার গায়ে ঝাড়বাতির বিচ্ছুরিত আলোর প্রতিফলন মসজিদের অভ্যন্তরে আলোর পরিমান বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে



আমরা সদলবলে সবাই একসাথে তাড়াতাড়ি এক সুবিধাজনক জায়গায় বসে পড়লাম । দলে আমরা কজন যারা নতুন তারা তখন ও এক মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় চারিদিক তাকিয়ে দেখছিলাম। আর মনে তখন খেলা করছিলো অনেক কিছু। একদিকে বিস্ময় কাজ করছিলো স্হাপত্যশৈলী অবলোকন করে । অন্যদিকে অসম্ভব ভাল লাগায় আচ্ছন্ন ছিলাম এইভেবে যে অবশেষে আল্লাহপাক তার প্রিয় বন্ধুর শেষ বিশ্রামস্থল এবং প্রিয় মসজিদে নব্বীতে আমাকে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন এই ভেবে । ভাবনার সূতা ছিঁড়ে ভোরের সুবেহ সাদিকের আলো ফোটার সাথে সাথে করুন সুরে অথচ ভরাট গলায় সুললিত কন্ঠে মুয়াজ্জিন আযান দিলো । সমস্ত মসজিদের ভেতরে সে এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি হলো আযানের শব্দগুলো দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মনে এক অসম্ভব ভালো লাগার আবেশ তৈরী করলো ।



নামাজ পড়ে প্রথম দিন সকালে আমরা সদলবলে বেরিয়ে আসলাম মসজিদ থেকে । ভোরের আলো তখন ফুটে উঠেছে । সকালবেলার আলোতে ভাল করে লক্ষ্য করলাম এই প্রথম মদীনা শহরকে। বিশাল চওড়া রাস্তা গুনে দেখলাম আট লেনের আর রাস্তার পাশে ফুটপাত দিয়েই মনে হয় দুই লেনে গাড়ি চলাচল করতে পারবে ।অবশ্য এই বিশাল ফুটপাত বছরের বেশীর ভাগ সময়ে খালি পড়ে থাকলেও হজ্বের সময় এর প্রয়োজনীতা উপলদ্ধি করা যায়।



আমাদের গেস্ট হাউসটা ছিলো মসজিদে নব্বী থাকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। তাই যাতায়তেরর সময় খুব একটা বেগ পেতে হয়নি ।বরং নামাজ পড়তে আসা যাওয়ার পথে নজরে পড়তো নানান দৃশ্য । যে এলাকায় আমাদের গেস্টহাউসটা ছিলো তার আশাপাশে জমজম হোটেল,ঢাকা হোটেল নামে প্রায় গোটা দশেক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ছিলো।



আমরা মদীনায় থাকাকালীন সময়ে একটি জুম্মা পেয়েছিলাম সেদিন দেখলাম এলাকাটি হয়ে উঠেছিলো বাংলাদেশীদের মিলনমেলা। অনেকই সেদিন মূলত এসেছিলো হজ্বে আসা তাদের পরিচিত বা আত্মীয়দের সাথে দেখার জন্য ।
মসজিদে নব্বীর প্রবেশের ঠিক বাইরে অর্থাৎ এর চারধারে মসজিদ এলাকাসংলগ্ন স্থানজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পাচঁতারা হোটেলের অবস্থান ।এই হোটেলগুলোর আন্ডারগ্রাউন্ডে আবার গড়ে উঠেছে চোখ ধাধাঁনো শপিংমল।









এই মলগুলোতে সকল ধরনের দ্রব্যসামগ্রীর সমাহার লক্ষ্য করা যায় । কি নেই এখানে খাবার থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ,পোশাক আশাক ,গহনাগাটির দোকান তাছাড়া আছে হাজীদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ডিজাইনের জায়নামাজ ,তাসবীহ এছাড়া ইসলামিক কালিওগ্রাফির উপর ডেকোরেশেনের কাজ পাথড়,চামড়া এবং নানা ধরনের ধাতুর উপর । এবং তাদের দামও বেশ চড়া ছিলো।



আমাদের স্বল্প বাজেটে আমরা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলাম আমরা মূলত দেশে আত্মীয়য়স্বজনের জন্য জায়নামাজ আর তাসবীহ কিনবো আর অবশিষ্ট টাকা থাকলে হয়তোবা দেশে ফেরার আগে কিছু সোনার হালকা কিছু অলংকার কিনবো স্ত্রীর জন্য।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল যেহেতু আমরা হজ্বের নিয়্যতে মূলত এখানে আসা তাই পারতপক্ষে আমরা খুব কমই এসেছিলাম এই শপিংমল গুলো দেখতে ।

চলবে....।

Saturday, May 2, 2009

ইয়া তা‌য়বা গানের অর্থ এবং ভিডিও

মক্কায় এবং মদীনায় থাকাকালীন সময়ে মসজিদে নব্বী এবং মসজিদুল হারেমে যাওয়া আসার পথে রাস্তার দুধারের দোকানে এই গানটা প্রায়ই শুনতাম অর্থ না বুঝলেও এই গানটির সুরের মূর্ছনা খুব ভাল লাগতো ।এখানে গানটির লিরিকস ইংরেজী অর্থ সহ দিলাম আশা করি ভাল লাগবে আপনাদের ।




Ya Taiba Lyrics and Translation

Ya Taiba Ya Taiba Ya Dawal Aiyyaana
Shtiknaa Lak Wilhawana Daana
Wilhawana Daana

Lammasaa Rilmarkabnaa Saani Saaru-ul Dam-ai Maa-Ja-Faani
Aakhazu Kalbi Ma Jinaani
Ya Taiba Yaati Malwal Haana
Yaati Malwal Haana

Ya Taiba Ya Taiba Ya Dawal Aiyyaana
Shtiknaa Lak Wilhawana Daana
Wilhawana Daana

Qiblaati Baitullahi Saabir Al-Laani Yaumal-Laki Zaayeer
Ya Turah Haltaraani Naazir Lilkaaba Tug Murnib Aamaana
Wa Tug Murnib Aamaana

Ya Taiba Ya Taiba Ya Dawal Aiyyaana
Shtiknaa Lak Wilhawana Daana
Wilhawana Daana

Nabina Agla Um-Nniyaati Azur-rak Lov Mar-Rab Hayaati
Wab-Jiwa-Rak Salli Salaati Wazkur Raab-bi-wat-lul Quraa'na
Wat-lul Quraa'na

Ya Taiba Ya Taiba Ya Dawal Aiyyaana
Shtiknaa Lak Wilhawana Daana
Wilhawana Daana

Bushraki-il Madina Bushraki Bi-Kudumil-Haadi Ya Bushraki
Fa Haal-Li Maawa Hihi Maaki Ataman-Na Fan-Nooru Sabaana
Nooru-Kum Sabana

Ya Taiba Ya Taiba Ya Dawal Aiyyaana
Shtiknaa Lak Wilhawana Daana
Wilhawana Daana



Translation

Chorus
O Tayba, O Tayba
O cure of the patient
we missed you, and passion has called us to you

As the ship departed, it forgot me
they sailed away and my tears never dried up
they took my heart and my soul with them
O Tayba, you're the distracted's love

Chorus

My direction of prayer (my Qiblah), the house of Allah, I'm patient
perhaps a day will come to visit you
I wonder, Will I be looking upon alkaaba
and being overwhelmed with it's safety..

Chorus

Our prophet, my best wishes, to visit u,
At least once in my life
and near you, to perform my prayers
to praise my Lord, and to recite Qur'an

Chorus

O Madina, How lucky you are
for the coming of the loadstar
May I have a shelter beside you
Indeed, your light has enchanted us