Thursday, April 16, 2009

হজ্বের সেই দিনগুলো -৬



মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছিলাম যখন মন তখন নষ্টালজিক ভাবনায় আক্রান্ত হয়ে ফিরে গিয়েছিলো ইতিহাসের সেই ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ সেপ্টেমবারে সোমবারে , এই মাত্র খবর এসেছে মহানবী (সা:) কুবায় ৩দিন অবস্থানের পর রওয়ানা দিয়েছেন তার উট কাসওয়ায় চড়ে মদীনা তথা সেদিনকার ইয়াসরিবের উদ্দেশ্যে । মহানবী (সা:)উটের পিঠে চড়ে চলছেন তাকে অনুসরন করে পিছনে চলছে কয়েকশ মুসলমান এবং স্থানীয় নারী পুরুষের দল কেউ হাঁটে কেউবা আবার ঘোড়া আর উটের পিঠে চড়ে ।পথে মধ্যে একে একে পাঁচটি গোত্র নবীজি (সা:) কে তাদের সাথে থেকে যাবার জন্য অনুরোধ করলেন । কিন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে নবীজি বললেন "আমার উটকে আপন ইচ্ছায় চলতে দাও । সেই সির্দ্ধান্ত নেবে আমি কোথায় আমার আবাস গড়বো।"




এদিকে ইয়াসরিবের দ্বারপ্রান্তে পথের দুধারে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর কিশোরীর দল দফা হাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে নবীজিকে সালাম জানানোর জন্য, বিগত দিনগুলো তারা রচনা করেছে নবীজির প্রসংশামূলক গান । আজ এই দিনে সেই গান তারা গেয়ে নবীজিকে তাদের মাঝে বরন করে নিবে। প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বৃদ্ধ যুবক ,পৌঢ় আর নারীর দল । সবাই আছে সেই মানুষটির প্রতীক্ষায় যিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে প্রেরিত হয়েছেন ।তিনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেন এবং আল্লাহর বানীকে পৌঁছে দেন মানুষের কাছে ।তিনি মক্কার আল আমীন যিনি কুরায়েশ দের কাছে সমাদৃত বিশ্বাসী এবং সত্যবাদী হিসেবে ।

অবশেষে শহরের দ্বারপ্রান্তে উটের পায়ে ধূলা উড়িয়ে মুজাহিদের দল নিয়ে মহানবী (সা:) প্রবেশ করলেন ইয়াসরিব শহরে। কিশোর কিশোরীর দল গেয়ে উঠলো মহানবীর প্রশংসা স্তুতি দফায় বেজে উঠলো সুরের মূর্ছনা । মহানবী (সা:) উট কাসওয়ায় বসে আছেন আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন এক নতুন দিনের সূচনায় । উট এগিয়ে চলছে তার আপন মনে । অবশেষে উটটি এসে থামলো মালিক বিন নাজ্জাজের বাসার সামনে। নবীজি উট থেকে নেমে সামনে একটি বাসা যার মালিক আবু আইউবের (রা:) সাথে দেখা করলেন । তার অভিভাবকত্বে থাকা দুটি শিশু সাহল এবং সুহায়েলের জমিটি তিনি পছন্দ করলেন এবং কিনে নিলেন ন্যায্য দামে । এবং সেখানে তিনি একটি মসজিদ নির্মানের আদেশ দেন । মহানবী (সা:) বলেন "এটাই হবে আমার গৃহ, আমার ইবাদতের স্থান এবং আমার চিরস্থায়ী বিশ্রামের স্থান"।



মহানবী (সা:) ইয়াসরিবে একসময় যে হিজরত করবেন এবং এটাই হবে তার আবাসস্থল একথা বিভিন্ন আসমানী কিতাবে ভবিষ্যবানী করা হয়েছিল। Peace or Destruction গ্রন্হে হাজী মাহবুব কাশিম 'তাফরিহুল আসকিয়া ফিল আহওয়াল উল আম্বিয়া গ্রন্হের বরাত দিয়ে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ্য করেন। ঐ ঘটনাটি মহানবী (সা:) এর ইয়াসরিবে হিজরত সম্পর্কিত।

ইয়ামেনের রাজা তিব্বা স্বীয় রাজ্য থেকে সিরিয়া ও ইরাক বিজয়ের উদ্দেশ্যে বের হন । যাত্রাপথে তিনি এমন এক স্থানে এসে উপস্থিত হন যা বর্তমানে মদীনা নামে সুপ্রসিদ্ধ।জায়গাটি তার খুব ভাল লাগে তাই তিনি তার নিজ পুত্রকে ঐ স্থানের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন । কিন্তু ঘটনাচক্রে সেই স্থানের লোকজন মিলে যড়যন্ত্র করে রাজা তিব্বার ছেলে কে হত্যা করে । নিজ পুত্রের এহেন পরিনতি রাজা তিব্বাকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে ।তিনি ই স্থানের লোকজন সহ স্থানটিকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিন্হ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে সিরিয়া থেকে মদীনায় গমন করেন । তার নিজ সৈন্যদলের সহায়তায় তিনি সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেন । কিণ্তু অবাক বিস্ময়ে পরদিন লক্ষ্য করেন সবকিছু আগের মত আছে যা গতকাল তিনি ধ্বংস করেছিলেন।এভাবে বারবার চেষ্টা করেও তিনি যখন এই শহরটির কিছুই করতে পারলেন না ।
এসময় তার সাথে প্যালাইস্টাইনে এবং সিরিয়ায় যুদ্ধের সময় বন্দী চারশ ইহুদী ছিলো এবং তারা তাদের আসমানী কিতাব তাওরাত সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবিহাল ছিলো।তাঁরা রাজা তিব্বাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে তিনি তার শক্তির ব্যবহার যতখুশী করতে পারেন । কিন্তু এই স্থানটি তিনি কিছুতেই ধ্বংস করতে পারবেননা।

কারন এস্থানটি হবে সর্বশেষ নবীর আবাসস্থল। তাদের তাওরাত থেকে আনীত এই ভবিষ্যৎবানী আসলেই সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য রাজা তিব্বা একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন । দুজন বৃদ্ধ ইহুদী তাওরাত গ্রন্হ হাতে একটি উন্মুক্ত স্থানে অগ্নিকুন্ডের উপর দিয়ে সম্পুর্ন অক্ষত অবস্থায় হেঁটে গেলেন ।এরপর রাজা তাদের দুজন যাজক কে তাদের সেইসময়ে সবচেয়ে বেশী পূজিত অগ্নিদেবতার দুটি মূর্তি হাতে হেঁটে যেতে বললেন সেই একই অগ্নিকুন্ডের উপর দিয়ে এবং তারা ঐ অগ্নিকুন্ড অতিক্রম তো করতেই পারলেন না এবং আগুনে দগ্ধ হলেন।




নবীজি (সা:) এর হিজরতের অনুরসনকৃত পথ

অবশেষে রাজা তিব্বা বিশ্বাস করলেন তাওরাতে যা বলা হয়েছে সেই ভবিষ্যৎ বানীর উপর।এবং এখানেই শেষ নয় তিনি তার এই মদীনা শহরের ধ্বংস পরিকল্পনা বাতিল করলেন । তিনি মুক্ত করে দিলেন তার চারশ বন্দি ইহুদীদের এবং তাদের সেখানে তিনি বসতি গড়ে দিলেন । এভাবে সৃষ্টি করলেন নতুন একটি শহরের তার নামানুসারে শহরটির নাম হল ইয়া তিব্বা নামে । সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শহরের নামে ইয়াসরিব এ পরিবর্তিত হয়।মহানবী (সা:) যখন এই শহরে আসেন তখন এই শহরটি ইয়াসরিব নামে পরিচিত ছিল।

রাজা তিব্বা তার প্রতিষ্ঠিত শহরটির সাহাউল নামে এক বৃদ্ধ ইহুদীর হাতে এক পত্র দিয়ে বললেন তার জীবদ্দশায় যদি সেই প্রতিশ্রুত শেষ নবীর দেখা পান যেন তার হাতে এই পত্রটি দেন ।আর না হলে তার পুত্রকে একই কথা বলে যেন বংশ পরস্পরায় তারা এই পত্রটি শেষ নবীর হাতে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।অবশেষে ১০৪০ বছর পরে যখন মহানবী (সা:) এর মদীনায় আসার সময় প্রায় সমাগত তখন এক দল লোক মদীনা থেকে মক্কা গেলেন নবীজির (সা:) সাথে দেখা করার জন্য ।সেই দলে আইয়ুব আনসারী নামে এক ব্যক্তি আবু লাইলা নামে একজন যাত্রীর কাছে সেই রাজা তিব্বার পত্রখানি দিয়ে বলেন এই পত্রটি যেন নবীজিকে দেয়া হয়।আর তিনি নিজ থেকে এই পত্রটি না চাইলে যেন পত্রটি ফেরত আনা হয়।
এই প্রতিনিধি দলটি যখন নবীজি (সা:) সাথে দেখা করতে গেলেন নবীজি তখন আল্লাহর মারফতে জানতে পারলেন ঘটনাটি এবং তিনি স্বয়ং আবু লাইলাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন "তোমার নাম আবু লাইলা। রাজা তিব্বার আমাকে দেয়া পত্রখানি তোমার কাছে আছে সেই পত্রটি আমাকে দাও "।উপস্থিত সবাই অবাক হল এই ভেবে যে এবারই প্রথম আবু লাইলা নবীজির কাছে এসেছিলেন তাকে নবীজির চেনার কথা নয়। নবীজির আদেশে আবু লাইলা সবার সামনে পত্রখানি বের করে জোড়ে জোড়ে পড়লেন:

" আপনার প্রশংসা ঘোষনা করে এবং আপনার নিরাপত্তা ও কল্যান প্রাথর্না করে আমি আপনাকে ,হে মুহাম্মদ( আপনার উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)জানাচ্ছি: আমি আপনাকে গ্রহন করার এবং সেই কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের ঘোষনা করছি , যে কিতাব আল্লাহ আপনার মাধ্যমে প্রেরন করবেন। আমি আরও ঘোষনা করছি যে, আমি আপনার ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছি এবং আমি আপনার আল্লাহকে সব কিছুর স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করেছি।ইসলামী শরীয়তের সব বিধান, যা আল্লাহর তরফ থেকে আপনার কাছে আসবে , আমি গ্রহন করার ঘোষনা করছি।

'শেষ বিচারের দিনে আমি যেন আল্লাহর ক্ষমা পাই সেজন্য আমি আপনার সুপারিশ প্রার্থনা করছি এবং আপনি যেনো আমাকে বিস্মৃত না হন। আপনার আগমনের পূর্বেই আমি আপনাকে এবং ইসলাম সম্পর্কে আপনার বানী আমি গ্রহন করেছি এবং এ কারনে আমি আপনার প্রথম শিষ্য ও অনুসারী । আপনাকে গ্রহন করার দাবীর স্বপক্ষে আমি আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম খলিলুল্লাহর( আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম)ধর্মেও ধর্মান্তরিত হয়েছি এবং আমি এখন তার স্বর্গীয় বানীর ওপর বসবাস করছি।"

ইয়েমেনের রাজা তিব্বার
সীল ও স্বাক্ষর

Wednesday, April 8, 2009

হজ্বের সেই দিনগুলি - ৫



অবশেষে সমস্ত অপেক্ষার পালা শেষ করে আমরা অধীর আগ্রহে রওয়ানা হলাম আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ)এর প্রিয় মসজিদ "মসজিদে নব্বী" কে প্রথমাবারের মত দেখবার জন্য।প্রতিটি পদক্ষেপে যতই এগিয়ে চলছিলাম ততই মনের ফ্রেমে কল্পনায় ভেসে উঠছিলো নবীজির এক একটি ঘটনা।

আজ থেকে হাজার বছর আগে এই মদীনার দিগন্তে মরুভূমির তপ্ত লু হাওয়ায় ধূলো উড়িয়ে ছোট্ট এক কাফেলা এগিয়ে চলছে । ধীরে ধীরে তাদের ক্লান্ত মলিন চেহারায় ভেসে উঠছে নতুন এক দিনের স্বপ্ন। পেছনে ফেলে আসা জীবনের সেই চরম লান্ছনার আর বন্চনার ইতিহাস কে পেছনে ফেলে তারা এগিয়ে চললো দৃপ্ত পদক্ষেপে মদীনা সেদিনকার ইয়াসরিব শহরের প্রবেশ দ্বারের দিকে। সবার আগে এগিয়ে চলছেন আল্লাহর অশেষ রহমতের ধারায় সিক্ত আমাদের প্রিয় নবীজি (সা:) ।ধূলায় ধূসরিত রিক্ত হস্তে সেদিন আমাদের প্রিয় নবীজি শুধুমাত্র আল্লাহর আদেশে হিজরত করে চলে এসেছিলেন সেদিনকার ইয়াসরিব অর্থাৎ আজকের মদীনায়।যখন তিনি চলে আসছিলেন বারবার ফিরে দেখছিলেন তার প্রিয় শহর মক্কার দিকে। নিজ বংশধর কোরায়েশদের চরম অত্যাচারের পরও মাটি কামড়ে আকঁড়ে ধরে রেখেছিলেন এই মক্কাকে বুকের সাথে। আজ সেই মক্কাকে ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে আল্লাহর আদেশে ।মক্কার মাটির ঘ্রান যেনে নবীজির বুকের সাথে মিশে আছে ।আজো যেন সেই নবীজির প্রিয় পা মোবারকের পদচিন্হ মিশে আছে এই মরুভূমির বুকে ।

ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কায় ফিরে আসলাম বাস্তবতায় । প্রায় ৫ মিনিট হতে চললো হোটেল থেকে রওয়ানা দিয়েছি সদলবলে। দূর থেকে ভেসে আসলো সুমুধূর আযানের ধ্বনি । ভোরের আলো ফুটতে তখন কিছুটা বাকী দেখলাম প্রসস্ত রাস্তার দুপাশের ফুটপাথ ধরে এগিয়ে চলছে সবাই মসজিদে নব্বীতে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে ।দূর থেকে চোখে পড়লো মসজিদে নব্বীর উঁচু মিনার । ধীরে ধীরে মানসপটে ভেসে উঠলো প্রিয় মসজিদে নব্বীর পূর্ন আবয়ব ।



আমাদের প্রিয় নবীজি (সা:) ঘুমিয়ে আছেন এই মসজিদের কোন এক প্রান্তে পবিত্র রওজা মোবারকে তার প্রিয় সাহাবী হজরত আবু বকর (রা:) এবং হজরত উমর (রা:) সাথে। আর কিছুক্ষনের মধ্যে পা রাখতে যাচ্ছি এমন এক পবিত্র স্থানে ,যেই স্বপ্ন এতদিন লালন করে আসছিলাম মনের কোনে । অবশেষে আল্লাহ পাক আমাকে নিয়ে আসলেন তার মেহমান হিসেবে তার প্রিয় হাবীবের প্রিয় মসজিদে নব্বীতে । সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ পাকের যিনি আমাকে এই সৌভাগ্য দান করলেন জানিনা কবে কোথায় কোন ভাল কাজের প্রতিদান হিসেবে এই সুযোগ আমার ভাগ্যে জুটলো।



মনে এক অদ্ভুত ভাল লাগা নিয়ে পা রাখলাম মসজিদে নব্বীর আঙিনায়। দেখলাম একটি সবুজ গালিচা পাতা সামনের প্রবেশ দ্বারের থেকে মসজিদের ভেতরের দরজা বরাবর। পাশের আরো অনেকগুলো গেইট দিয়ে লোকজন আসা যাওয়া করছে । একটি গেইট দিয়ে শুধুমাত্র মহিলারা প্রবেশ করছে । মসজিদের প্রায় ২০০ গজ আঙিনা পেরিয়ে অবশেষে হাজারো মানুষের ভীড় ঠেলে পা রাখলাম মসজিদের অভ্যন্তরে মন জুড়িয়ে গেলো শীতল পরশে । সারা মসজিদ জুড়ে চলছে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা । ঢোকার মুখে প্রবেশ দ্বারে ছাদ থেকে ঝুলছে বিশাল এক ঝাড়বাতি স্বর্নের প্রলেপে মাখা ।



মসজিদের অভ্যন্তরে ঢোকার মুখে দেয়ালের দুদিকে বিশাল দুটো কাঠের তাক জুতা রাখার জন্য । অবশ‌্য অনেকে জুতা রাখার জন্য সাথে কাপরের ব্যাগ সাথে করে নিয়ে আসে । আমরাও এরকম জুতার ব্যাগ বাংলাদেশ থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম।কারন এই কাঠের তাকে জুতা রাখলে একটি সমস্যা হয় সেটা হল অনেক সময় জুতা ভুলে বেহাত হয়ে যায় অথবা জুতা বদলের ঘটনা ঘটে ।

মসজিদে নব্বী ইসলামের মর্যাদাপূর্ন স্থান হিসেবে মক্কার মসজিদ আল হারেমের পরই এর স্থান। এবং তৃতীয় স্থান হিসেবে এর পর প্যালাইস্টাইনের মসজিদ আল আকসা মসজিদটি। রাসুলুল্লাহ (সা:)বলেছেন একজন মুসলমান এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র তিনটি ধর্মীয় স্থানে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমন করতে পারে । এগুলো হল মক্কার মাসজিদ আল হেরেম যেখানে কাবা ঘর অবস্থিত,এরপর মদীনার মসজিদে নব্বী এবং সবশেষে প্যালাইস্টাইনের মসজিদ আল আকসা ।



নবীজি (সা:) মদীনায় মসজিদে নব্বী সর্বপ্রথম নির্মান করেন । পরবর্তীতে খলিফাদের সময়ে এটা পরিবর্তিত এবং পরিবর্ধিত হয়ে বর্তমানের রুপ ধারন করেছে। সর্বপ্রথম হজরত মুহাম্মাদ(সা:) এই মসজিদটি নির্মান করেন পাম গাছের খুঁটি আর কাদামাটির দেয়াল তৈরীর মাধ্যমে । প্রথমদিকে এই মসজিদে ৩টি প্রবেশপথ ছিলো দক্ষিনে বাবে রাহমাত ,পশ্চিমে বাবে জীবরীল এবং বাবে আল নিসা পূর্বে ।প্রথমদিকে এই মসজিদের কিবলা নির্ধারিত ছিলো উত্তরে জেরুসসালেমের আল আকসা মসজিদের দিকে পরবর্তীতে কিবলা পরিবর্তন হয়ে নতুন দিক দক্ষিনে মক্কা মুখী করা হয়।